তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৬ মার্চ ২০২০

তথ্যবিবরণী 06/03/2020

তথ্যবিবরণী                                                                                         নম্বর : ৮৩৬

 

ভূমি ব্যবস্থাপনায় হেডম্যান কারবারিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

                                                    -- পার্বত্য মন্ত্রী

 

বান্দরবান, ২২ ফাল্গুন (৬ মার্চ) :

 

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় হেডম্যান কারবারিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। তিনি ভূমি ব্যবস্থাপনায় সরকারের পাশাপাশি হেডম্যান কারবারিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

 

আজ  বান্দরবানে থানচির হেডম্যান পাড়ায় স্থানীয় হেডম্যান ও কারবারিদের সাথে মতবিনিময়কালে পার্বত্য মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

 

এ সময় অনুষ্ঠানে থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম মৃদুল, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোঃ ইয়াছির আরাফাত, ৩৬২ নং থানছি মৌজার হেডম্যান হ্লাফসু, ১৭তম বোমাং রাজার প্রতিনিধি হেডম্যান সাশৈ প্রু-সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

 

এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে থানছি উপজেলার বলিপাড়া মুসলিম পাড়া মসজিদ ও ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে থানছি কলেজের হোস্টেল ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন পার্বত্য মন্ত্রী।

 

#

 

bvwQi/মাহমুদ/মোশারফ/সেলিম/২০২০/২০০০ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী                                                                                         নম্বর : ৮৩৫

 

লবণ চাষে প্রয়োজনে ভর্তুকি দেওয়া হবে

                                   -- শিল্পমন্ত্রী

 

কক্সবাজার, ২২ ফাল্গুন (৬ মার্চ) :

 

দেশীয় লবণ শিল্পের সুরক্ষায় সরকার প্রয়োজনে সারের মতো লবণ চাষিদেরকেও ভর্তুকি দেবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি বলেন, লবণ শিল্পের সমস্যা সমাধানকল্পে শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে । সারে যেমন প্রতি বছর ভর্তুকি দেওয়া হয়, লবণ শিল্পেও প্রয়োজনে ভর্তুকি দেওয়া হবে।

 

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত লবণ চাষি সমাবেশে আজ প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী একথা বলেন। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, সংসদ সদস্য কানিজ ফাতেমা মোস্তাক, বিসিক চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তাক হাসান, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

 

শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশীয় শিল্পের স্বার্থে লবণ চাষিদের বাঁচাতে হবে। লবণ শিল্পে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি লবণ উৎপাদনে শুধু প্রকৃতির উপর নির্ভর না করে আধুনিক পদ্ধতিতে লবণ চাষের ওপর গুরুত্ব দেন। চাষিদের উৎপাদিত লবণের উপযুক্ত মূল্যের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটি যৌক্তিক সমাধান করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি প্রান্তিক লবণ চাষিদের সুরক্ষায় বিসিকের মাধ্যমে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা-ও তুলে ধরেন।

 

অনুষ্ঠানে বিসিক চেয়ারম্যান লবণ চাষিদের উদ্দেশে বলেন, দেশের লবণ শিল্প সুরক্ষায় বিসিক একজন যুগ্ম সচিবের অধীনে দু'শ জনবল নিয়ে একটি আলাদা লবণ বিভাগ চালু করবে। পাশাপাশি লবণ চাষিরা যাতে সহজেই ঋণ পায়, সে লক্ষ্যে বিসিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া বিসিক নিজস্ব অর্থায়নেও লবণ চাষিদের ঋণ দেবে। দেশের লবণ শিল্প সুরক্ষায় যা যা করা দরকার, শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিসিক এর সবই করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

এর আগে শিল্পমন্ত্রী স্থানীয় একটি হোটেলে চাষিদের কাছ থেকে মোল্লা সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের লবণ ক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। বিসিকের সর্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

 

#

 

জলিল/মাহমুদ/মোশারফ/সেলিম/২০২০/১৯০০ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী                                                                                         নম্বর : ৮৩৪

 

পাট আবার সুদিনে ফিরেছে

             -- বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী

 

ঢাকা, ২২ ফাল্গুন (৬ মার্চ) :

 

পাট হারিয়ে গেছে, এ ধারণা থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে এসেছে মন্তব্য করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক বলেছেন, সবাই ভেবেছিল পাটের সুদিন শেষ। কিন্তু পাট হারিয়ে যায়নি, আবারও পাটের সুদিন ফিরেছে। যার বড় প্রমাণ বাংলাদেশে চলতি অর্থ বছরে পাটখাতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন। চলতি অর্থ বছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পাট ও পাটজাত পণ্যে ৬শ ১৬ দশমিক ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় করেছে বাংলাদেশ। এই আয় গত অর্থ বছরের একই সময়ের চেয়ে ২০ দশমিক ৮২ শতাংশ বেশি।

 

আজ সকালে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে পাট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

 

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি অনুষ্ঠানে বলেন, একটা সময় আমরা পাট দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতাম। কিন্তু আমরা সে অবস্থান ধরে রাখতে পারিনি। এখন আমরা আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছি। আমাদের পাটের সোনালী আঁশের স্বপ্ন শুরু হয়েছে। এটি আমরা নিশ্চিত করবো। আর বেশি দিন নেই যেখানে বিশ্ব বাজারে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে।

 

অনুষ্ঠানের শেষে ৫ দিনব্যাপী বহুমুখী পাটপণ্যের মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী। এ সময় তিনি মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন। এর আগে বস্ত্র ও পাট খাতে বিশেষ অবদানের জন্য ১১টি ক্যাটেগরিতে ১১ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।

 

এছাড়া আজ সকালে 'সোনালি আঁশের সোনার দেশ, মুজিববর্ষে বাংলাদেশ'- স্লোগানে জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে আটটার দিকে সচিবালয় প্রাঙ্গণ থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়। এরপর ‌র‌্যালিটি জিপিও মোড় হয়ে, পল্টন ও কাকরাইল সড়ক দিয়ে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া জাতীয় পাট দিবসের  উদ্বোধন করেন।

 

#

 

সৈকত/মাহমুদ/মোশারফ/সেলিম/২০২০/১৭০০ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী                                                                                                       নম্বর : ৮৩৩

 

বিসিকে পৃথক লবণ বিভাগ স্থাপন করা হবে

                                      ---শিল্পমন্ত্রী

                               

কক্সবাজার, ২২ ফাল্গুন (৬ মার্চ) :

 

          শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, লবণ শিল্পের উন্নয়ন ও লবণ চাষিদের জন্য লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এ একটি পৃথক বিভাগ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। একজন যুগ্ম-সচিবের নেতৃত্বে ২শ’ কর্মকর্তা-কর্মচারী এ বিভাগে কাজ করবে।  

 

          শিল্পমন্ত্রী আজ কক্সবাজারের হোটেল ওশান প্যারাডাইসে মোল্লা সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃক মুজিববর্ষে সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে লবণ ক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। বিসিকের সার্বজনীন আয়োডিন লবণ উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি নেয়া হয়।

 

          মোল্লা সল্টের পরিচালক মিজানুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, সংসদ সদস্য কানিজ ফাতেমা মোস্তাক, বিসিকের চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তাক হাসান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাঃ সেলিম উদ্দিন, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন ও মোল্লা সল্টের চেয়ারম্যান মোল্লা মোঃ মজনু।   

 

          শিল্পমন্ত্রী বলেন, লবণ চাষিদের উৎপাদিত লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। এজন্য ইতোমধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিসিককে প্রয়োজনীয় সবকিছু করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, পর্যটন-সহ নানাবিধ কারণে কক্সবাজারে লবণ চাষের জমির পরিমাণ দিন দিন কমছে। শিল্পমন্ত্রী এ সময় আধুনিক পদ্ধতিতে লবণ চাষের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, ভবিষ্যতে সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোতে লবণ চাষ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। লবণ চাষিদের উৎপাদিত লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে মোল্লা সল্টের মতো অন্যান্য বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

          অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী লবণ চাষিদের মাঝে মোল্লা সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের নিকট লবণ বিক্রয়ের চেক বিতরণ করেন।

 

#

 

মাসুম/মাহমুদ/মোশারফ/আব্বাস/২০২০/১৭৪১ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী                                                                                                       নম্বর : ৮৩২

                 পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রমে আরো গুরুত্ব প্রদান করতে হবে

                                                          ---জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ২২ ফাল্গুন (৬ মার্চ) :

          জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রমে আরো গুরুত্ব প্রদান করতে হবে । 

 

          আজ ঢাকায় সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের ৩৮তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে প্রতিমন্ত্রী একথা বলেন।

 

          প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন আগামী দিনের সফল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, সেজন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে সুস্থ করে গড়ে তুলতে হলে লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অভিভাবকদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে।   

 

          বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক সত্যব্রত সাহার সভাপতিত্বে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আলী কদর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।

 

#

শিবলী/মাহমুদ/মোশারফ/আব্বাস/২০২০/১৭২৯ ঘণ্টা

 

 

তথ্যবিবরণী                                                                                                       নম্বর : ৮৩১

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২০ উদযাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী কর্মসূচি                                                                                                           

ঢাকা, ২২ ফাল্গুন (৬ মার্চ) :

 

          আগামী ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২০ উদযাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ বছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবস বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশে নারী সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, নারীর অধিকার রক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ও সমতা সৃষ্টির জন্য  দিবসটির গুরুত্ব অপরিসীম। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- 

প্রজন্ম হোক সমতার

সকল নারীর অধিকার

 

আগামী ৮ মার্চ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উদ্বোধন অনুষ্ঠান, দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ডকুমেন্টারি প্রদর্শন ও জাতীয় পর্যায়ে ৫ জন শ্রেষ্ঠ জয়িতাকে সম্মাননা প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বাংলাদেশে টেলিভিশনসহ অন্যান্য টেলিভিশন ও গণমাধ্যমে টকশো, বিশেষ নিবন্ধ ও অন্যান্য অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। 

          দেশব্যাপী ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২০ পালনের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশে নারী উন্নয়নে অসামান্য অগ্রগতি, সমতা সৃষ্টি, বৈষম্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন, বাল্যবিয়ে বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি, নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও সকল ধরনের সহিংসতা বন্ধে ব্যানার, প্লাকার্ড, ফেস্টুন, স্যুভেনিয়ুর প্রকাশিত ও প্রদর্শিত হবে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২০ উপলক্ষে আগামী ১৬ থেকে ১৮ মার্চ দেশজুড়ে তিন দিনব্যাপী ‘নারী উন্নয়ন মেলা’ আয়োজন করা হবে। 

#

আলমগীর/মাহমুদ/মোশারফ/আব্বাস/২০২০/১৭১৭ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী                                                                                                          নম্বর : ৮৩০

দুই আইনে সম্প্রচারকর্মী সুরক্ষা, সম্প্রচারমাধ্যমের সুরক্ষাতেও ব্রতী সরকার

                                                                               ---তথ্যমন্ত্রী

 

ঢাকা, ২২ ফাল্গুন (৬ মার্চ) :

 

            সম্প্রচার আইন ও গণমাধ্যমকর্মী আইনের মাধ্যমে দেশের সম্প্রচারমাধ্যম কর্মীরা চাকুরিগত সুরক্ষার আওতায় আসবেন এবং সম্প্রচার মাধ্যমের সুরক্ষার জন্যও সরকারের নূতন পদক্ষেপগুলো সুফল বয়ে আনছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ।    

            তিনি আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি)'র ২য় সম্মেলনের সূচনাপর্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।

            মন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রচারমাধ্যমের পেশার সঙ্গে যারা যুক্ত আছেন, অবশ্যই তাদের চাকুরির সুরক্ষা প্রয়োজন। আমরা চেষ্টা করবো খুব শিগগিরই গণমাধ্যমকর্মী আইন মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য। আগামী সংসদ অধিবেশনে সেটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবো। গণমাধ্যমকর্মী আইন যখন চুড়ান্ত হবে তখন গণমাধ্যমকর্মীদের চাকুরির আইনগতভাবে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।’

            সম্প্রচার আইন নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রচার আইন দেড় বছর আগে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সম্প্রতি আইন মন্ত্রণালয় এটির ভেটিংয়ের কাজ শুরু করেছে। আমরা আশা করছি দ্রুত ভেটিং হয়ে আমাদের কাছে পৌঁছে যাবে। আপনারা জানেন সম্প্রচার নীতিমালা রয়েছে, এটি আইনে পরিণত হবে।’ 

            একইসাথে গণমাধ্যমের মালিকপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির সুরক্ষার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের মালিকপক্ষকে অনেক বেশি তৎপর হতে হবে। ১০ বছর ধরে চাকরি করছেন, হঠাৎ সে জানলো তার চাকরি নেই। এটি গণতন্ত্রের পরিপন্থী, মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। এটি কোনওভাবে কাম্য নয়। আমি আশাকরি আইন দুটো পাস হলে এমনটি আর হবে না।

            প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই দেশে বেসরকারিখাতে টেলিভিশন-বেতারসহ সম্প্রচার জগতের যাত্রা শুরু হয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘গত একযুগে এইখাতে ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে। কিন্তু এটির পাশাপাশি সম্প্রচারের ক্ষেত্রে যে শৃঙ্খলা দরকার ছিল, বিশেষ করে টেলিভিশন সম্প্রচারের ক্ষেত্রে যে শৃঙ্খলা ও ডিজিটালাইজেশন প্রয়োজন ছিল, সেটি হয়নি।’ 

            ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার পর আমরা স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই আপনাদের সবার সহযোগিতায় সেই শৃঙ্খলা অনেকটাই ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি, এখন টিভিগুলোর সিরিয়াল ঠিক রাখার জন্য দেন দরবার করতে হয় না’ জানিয়ে ড. হাছান বলেন, ‘ক্যাবল অপারেটরদের সাথে কয়েক দফা বসে তাদেরকে আমরা ডিজিটালাইজেশনের জন্য যে অনুরোধ জানিয়েছিলাম, তারাই বলেছিল গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা এবং চট্টগ্রামে অপারেটিং সিস্টেম ডিজিটাল করা সম্ভবপর হবে। কিন্তু সেটি তারা করতে পারেনি।'

            ড. হাছান বলেন, ‘সারাদেশের টিভি ক্যাবল অপারেটরদের সিস্টেম ডিজিটালাইজড করার জন্য সর্বোচ্চ একবছরের বেশি সময় লাগা সমীচীন নয়, যদিও আলোচনা করেই সময় দেব। কিন্তু ইচ্ছা থাকলে
এক বছরে মধ্যেই তা করা সম্ভব। আর যাদের ইচ্ছা থাকবে না, তারা পারবে না, তখন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তখন আমরা প্রয়োজনে নূতন কেবল অপারেটর লাইসেন্স দেবো, যারা ডিজিটালাইজড হয়েই আত্মপ্রকাশ করবে।’

                                                                                                            পাতা/২

 

                                                                                                            -২-

 

            দেশি সম্প্রচারমাধ্যমের টিকে থাকা ও বিকাশের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের নূতন ও ত্বরিত উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, 'আগে দেশের পণ্যের বিজ্ঞাপনগুলো বিদেশে চলে যেত, আমরা সেটি বন্ধ করেছি। এখন অন্তত বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন বিদেশি চ্যানেলে প্রচার হয় না। একটি দু'টির বিজ্ঞাপন হয়, কিন্তু তারা সে দেশে নিবন্ধিত। আইনানুসারে কোন ধরনের বিজ্ঞাপনই বিদেশি চ্যানেল প্রচার করতে পারে না। আমরা এটির কড়াকরি আরোপের চেষ্টা করেছি। ক্যাবল অপারেটিং ডিজিটাল হলে এটি রোধ সম্ভব হবে। আমরা এক্ষত্রে একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়ে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে চাই।'

            মন্ত্রী আরো বলেন, 'আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা যারা অভিনয় করেন, বিজ্ঞাপন অভিনয় করেন, তারা অনেক স্মার্ট। কিন্তু আমরা দেখতে পাই, বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন বিদেশ থেকে দ্বিতীয় মানের শিল্পী দিয়ে তৈরি করে আনেন। আমরা একটি বিধান করতে যাচ্ছি, আলোচনা করেছি। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে যে কেউ যে কাউকে দিয়ে বিজ্ঞাপন বানিয়ে আনতে পারেন। বিদেশি অভিনেতা, অভিনেত্রীদের দিয়ে বিজ্ঞাপন বানিয়ে আনতে পারেন। কিন্তু অনেক বেশি ট্যাক্স দিতে হবে। শুধুমাত্র যিনি বিজ্ঞাপন চিত্রে অভিনয় করবেন তাকে নয়, যিনি বিজ্ঞাপন বানাবেন তাকেও ট্যাক্স দিতে হবে। যিনি প্রদর্শন করবেন তাকেও ট্যাক্স দিতে হবে। আমি এনিআরের সঙ্গে কথা বলেছি, অর্থমন্ত্রীকে বিষয়টি জানিয়েছি। এটি হলে আমাদের দেশের কলাকুশলী ও শিল্পের সুরক্ষা হবে।’

            মন্ত্রী এসময় বিজেসি'র সম্মেলনের ধারাবাহিকতা ও এদেশের সাংবাদিকদের মেধা ও আন্তরিকতার প্রশংসা করেন।

            সম্মেলনের 'নীতি সংলাপ-কর্মী সুরক্ষা' শীর্ষক এ সূচনাপর্বে বিজেসি'র সভাপতি রেজওয়ানুল হক রাজার সভাপতিত্বে ও সদস্য-সচিব শাকিল আহমেদের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, ঢাকায় নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার জাভেদ প্যাটেল ও বিজেসি'র উপদেষ্টা একাত্তর টিভি'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু।

#

আকরাম/কুতুবুদ-দ্বীন/আসমা/২০২০/১৫৩০ ঘণ্টা

তথ্যবিবরণী                                                                                                       নম্বর : ৮২৯

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে ওয়াহিদুল হক এক অনিবার্য নাম

                                             - সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ২২ ফাল্গুন (৬ মার্চ) :

সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে ওয়াহিদুল হক এক অনিবার্য নাম, যাঁর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বে আমাদের সাংস্কৃতিক পদযাত্রার এক অমোচনীয় অধ্যায় তৈরি হয়েছে। তিনি যেমন কণ্ঠশীলনের একজন প্রতিষ্ঠাতা তেমনি এ দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ছায়ানট, রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদেরও একজন প্রতিষ্ঠাতা। ভাষা, সংগীত ছাড়াও রাজনীতি, সংস্কৃতি, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, ইতিহাস, চিত্রকলাসহ অনেক বিষয়ে তাঁর অসামান্য দখল ছিল। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি 'স্বাধীন বাংলা শিল্পী সংস্থা'র প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন। 

প্রতিমন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে প্রসিদ্ধ বাচিক চর্চা প্রচার ও প্রসার প্রতিষ্ঠান 'কণ্ঠশীলন' আয়োজিত দুই দিনব্যাপী 'ওয়াহিদুল হক স্মারণিক মিলনোৎসব ২০২০' এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

এবারের মিলনোৎসবের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, 'মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান'। প্রখ্যাত অভিনেতা ও আবৃত্তিশিল্পী সৈয়দ হাসান ইমাম এ মিলনোৎসব উদ্বোধন করেন।

প্রধান অতিথি বলেন, ওয়াহিদুল হক রবীন্দ্রনাথকে অবলম্বন করেছেন প্রবলভাবে। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগে আমাদের সাহিত্য, শিল্পকলা, বিজ্ঞান, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে যে বিচ্ছিন্নতা দেখা দিয়েছিল, সেটিকে তিনি রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর চিন্তা-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জোড়া লাগাতে চেয়েছিলেন। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জীবদ্দশায় যেমন ওয়াহিদুল হক মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত ছিলেন তেমনি আজও তাঁর প্রতি বাঙালির নিখাদ ভালোবাসার একটু কমতি নেই। কোনোদিন কোনো স্বীকৃতির মোহ তাঁকে আবিষ্ট করতে পারেনি। সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৮ সালে তিনি 'একুশে পদক (মরণোত্তর)' এবং ২০১০ সালে সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার 'স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর)' লাভ করেন।

কণ্ঠশীলনের সভাপতি গোলাম সারোয়ার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক গোলাম কুদ্দুছ। শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন কণ্ঠশীলনের অধ্যক্ষ মীর বরকত। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মিলনোৎসব উদ্‌যাপন পরিষদের আহবায়ক মোস্তফা কামাল।

উল্লেখ্য, এ বছর 'ওয়াহিদুল হক স্মারণিক মিলনোৎসব সম্মাননা ২০২০' প্রাপ্ত হয়েছেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব মঞ্চসারথি আতাউর রহমান।

#

ফয়সল/কুতুবুদ-দ্বীন/আসমা/২০২০/১৩০০ ঘণ্টা

আজ বিকাল পাঁচটার পূর্বে প্রচার বা প্রকাশ করা যাবে না

তথ্যবিবরণী                                                                                                       নম্বর : ৮২৮

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

ঢাকা, ২২ ফাল্গুন (৬ মার্চ) :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :  

“বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে ৭ মার্চ এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক এদিনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন। ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের বিশাল জনসমুদ্রে তিনি বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা।’ 

দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ অঞ্চলের জনগণের উপর নেমে আসে বৈষম্য আর নির্যাতনের জাঁতাকল। অর্থনৈতিক বৈষম্য ছাড়াও সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির মাতৃভাষাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী। শুরু হয় বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। ১৯৪৮-৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ৬-দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান এবং ৭০’র সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ের পথ ধরে বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম যৌক্তিক পরিণতির দিকে ধাবিত হয়। আর এসব আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।   

অবশেষে চলে আসে ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ। রেসকোর্সের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তিনি প্রদান করলেন স্বাধীনতার পথ-নকশা। যুদ্ধ অনিবার্য জেনে তিনি শত্রুর মোকাবিলায় বাঙালি জাতিকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন: ‘তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো।’ জাতির পিতার এই সম্মোহনী আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা গণহত্যা শুরু করে। জাতির পিতা ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহিদ হন। ২ লাখ মা-বোন সম্ভ্রমহারা হন। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ আর বহু ত্যাগের বিনিময়ে আমরা ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করি। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে ছিনিয়ে আনি মহান স্বাধীনতা, বাঙালি জাতি পায় মুক্তির কাঙ্ক্ষিত সাধ। প্রতিষ্ঠা পায় স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষণ। লেখক ও ইতিহাসবিদ Jacob F. Field এর বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা 'We Shall Fight on the Beaches : The Speeches That Inspired History' গ্রন্থে এই ভাষণ স্থান পেয়েছে। অসংখ্য ভাষায় অনুদিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ।   

জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক ২০১৭ সালে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহাসিক (World Documentary Heritage) হিসেবে ইউনেস্কোর International Memory of the World Register এ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সমগ্র দেশ ও জাতি গর্বিত। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। 

বাঙালির বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতার এই ভাষণের দিকনির্দেশনাই ছিল সে সময় বজ্রকঠিন জাতীয় ঐক্যের মূলমন্ত্র। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে অমিত শক্তির উৎস ছিল এ ঐতিহাসিক ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ আমাদের ইতিহাস এবং জাতীয় জীবনের এক অপরিহার্য ও অনস্বীকার্য অধ্যায়; যার আবেদন চির অম্লান। কালজয়ী এই ভাষণ বিশ্বের শোষিত, বঞ্চিত ও মুক্তিকামী মানুষকে সবসময় প্রেরণা যুগিয়ে যাবে।

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ২৬ মার্চ ২০২১ সময়কে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর অসামপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করছি। তিনি যে সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, বাঙালি জাতির জন্য যে উন্নত জীবনের কথা ভেবেছিলেন, তার সেই স্বপ্নকে আজ আমরা বাস্তবে রূপ দিচ্ছি।

রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ এবং ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি। গত ১১ বছরে আমরা দেশের প্রতিটি খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করেছি। ইতোমধ্যে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ আজ আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।

আসুন, আমরা দৃঢ় সংকল্পে আবদ্ধ হই-বাংলাদেশকে আমরা বিশ্বসভায় আরও উচ্চাসনে নিয়ে যাব; আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ-শান্তিপূর্ণ আবাসভূমিতে পরিণত করবো। ঐতিহাসিক ৭ মার্চে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

2020-03-06-20-31-9d451899f70e30022cdfe829d041be1f.docx 2020-03-06-20-31-9d451899f70e30022cdfe829d041be1f.docx

Share with :

Facebook Facebook